সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:২১ অপরাহ্ন
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমি
উৎসর্গ : (বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মরণে।)
সহস্র বাঙালির তাজা তাজা রক্তের দানা,
বাংলা মায়ের হাহাকার নিঃশ্বাস হৃদয়ের কান্না।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমি-
ভাই হারানো বোনের অশ্রæ ভেজা হৃদয়ের আর্তনাদ,
পিতার কাঁধে পুত্রের দুঃসাহসী মৃত্যুর লাশ।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমি-
তাজা তাজা রক্ত দানের পুণ্য পন্থা,
ঝলসে উঠেছে বাঙালির সহস্র হৃদয় আত্মা।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমি-
সবুজ বেষ্টনীর রক্তাক্ত বাংলার পতাকা,
মরেও পেয়েছে বাঙালি হৃদয় তৃপ্তি চির অমরত্ব তাঁরা।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমি-
তাজা তাজা রক্তে রঞ্জিত বাংলার মাটি,
বাঙালির হৃদয় সদা দুর্গম পথেও দুর্জয় ঘাঁটি।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমি-
সহস্র হৃদয়ের ঐক্য বন্ধন উদ্দ্যম দুঃসাহসিকতায় ভরা,
তথাপি তরুণরা এঁকেছে তারুণ্য শক্তির ঐক্য, তথা হৃদয়ের ঐক্যের রূপক চিত্রটা।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমি-
মাঠে-ঘাটে, পথে-প্রান্তরে জয়ঃধ্বনি সদা লক্ষ প্রাণ জুড়ে,
স্বাধীনতার পতাকা জাগ্রত হোক দিয়েছি বিসর্জন হৃদয় চিত্তকে।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমিÑ
তরুণ, দামাল, যুবকের বুঁকে বিঁধেছে অসংখ্য বুলেট বোমা,
তবুও বাঙালি জানে দুঃসাহসী দুর্গম পথে চলার পন্থা।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমি-
সতেজ ঐক্য বন্ধন বাহুবল তথা, তাজা তাজা রক্তের উদ্দ্যম দুঃসাহসিকতা,
তথাপি তরুণ হৃদয় চিত্তের ঐক্য বন্ধন, হৃদয় আত্মা মিশ্রিত তথা।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমি-
বাংলার বাতাসে ঝিলিমিলি রৌদ্রের অন্তরালে স্বাধীনতার রূপক ছায়া,
প্রিয়জন হারানো রমণীর হৃদয়ে হুহু কান্না, বিরহ বেদনা বিষাক্ত জ্বালা।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমি-
কবির লেখা বিখ্যাত কাব্য, মধুমাখা কবিতার রোমান্টিক ছন্দ,
তথাপি হাজার জয়ঃধ্বনি রূপে ঝলসে উঠেছে স্বাধীনতার রূপক চিত্র।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমিÑ
গাছে গাছে, লতা-পাতা, পাহাড়-পর্বত, সাত-সমুদ্র নীলাকাশে কানাকানি,
তারাও আছে সদা মগ্ন পরাধীনতার গøানি মুছে, স্বাধীনতার পরার্থ ঐক্য বন্ধনে।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমি-
ভোরের শিশির ভেজা রক্ত ঝরা ফুটন্ত সতেজ গোলাপ,
ঘাসের ডগায় বিন্দু বিন্দু শিশির কণা স্বাধীনতার রূপক ছায়া।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমি-
যুবক-যুবতী, তরুণ-তরুণী, শিশু-কন্যা, নর-নারী সদা,
স্বাধীনতার জন্যে গাইছে শত শত রক্ত ঝরা গান তবুও মধুমাখা তথা।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমি-
বসুন্ধরায় পরেছে স্বাধীনতার রূপক চিত্রের ছায়া,
তাইত সার্থক বাঙালি এঁকেছে স্বাধীনতার মর্মান্তিক চিত্রটা।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমি-
মাঠে-ঘাটে-পথে, লতা-পাতা, কাশবনে জয়ঃধ্বনি সদা,
তাইত বাঙালি চির অমর পেয়েছে পরাধীনতার গøানি মুছে স্বাধীনতার প্রদীপটা।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমি-
লেখকের লেখা সতেজ হৃদয়ের উদ্দ্যম দু:সাহসিকতায় ভরা ঐতিহাসিক উপন্যাস,
গৃহহারা সন্তান মাতা-পিতার আদর সোহাগ বঞ্চিত বন্ধী কারাগারে।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমি-
একটি নতুন পৃথিবীর জন্ম, পরাধীনতার গøানি ধুয়ে মুছে লাল রক্তের সাগরে,
ফিরে পাওয়া বাংলার ন্যায্য অধিকার, তরুণ সন্তানদের তাজা রক্তের কণায়।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমিÑ
পাখ-পাখালির কোলাহল, ভ্রমরের গুঞ্জন নিশীথ রাতের নিঝুম ছায়া,
আমার লেখা রক্ত ঝরা স্বাধীনতা, রক্তাক্ত স্বাধীন পতাকা বাংলার কবিতা।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমি-
বাঙালির হৃদয় হয়েছে ঝলসিত, চিরদিন রয়েছিল পরাধীনতার গøানি সহে,
তথাপি সহস্র হৃদয়ের কান্না, মুক্তিযোদ্ধার গৌরবের চরম শিখা।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমিÑ
বাংলার জাগ্রত জনতার সহস্র হৃদয় আত্মা,
যেন বাঙালি জনতার রক্তের দানা।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমি-
দুর্জয়ের প্রতিকী অগ্নিশিখা স্বাধীনতার রক্ত ঝরা,
সহস্র প্রাণের উদ্বোধনী শিখা বাংলার বাতাসে জয়:ধ্বনি তথা।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমি-
বাঙালির আবেগ প্রাণের মমতা,
সুখ-দুঃখ মিশ্রিত তথা বাঙালি ঐক্য বন্ধনে গড়া।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমি-
পুষ্পিত সৌরভ পরার্থে যৌবন শহীদদের রক্ত,
লক্ষ কোটি হৃদয়ের পরাধীনতার গøানি হিংস্রতা বর্জনে রক্ত দানের পন্থা।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমি-
ন্যায্য আদায়ের সহস্য প্রদীপ বাঙালির ঐক্য বন্ধনে গড়া,
শত আঁধার-অজ্ঞতা-অন্ধকার-কুসংস্কার বর্জনে জাগ্রত হয়েছে স্বাধীন পতাকা।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমি-
যুগে-যুগে লাঞ্চনা, অবহেলায় শোষিত তাঁরা, কত যে সয়েছে বাঙালি কঠোর তীব্রতা,
কিন্তু যাঁহারা দিল তাঁদের জীবন-প্রাণ, রাখবে তাঁদের ইতিহাস স্মরণীয় চিরমান।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমিÑ
কঠোর-ঝড়-ঝঞ্জাল-তীব্রতা, যদিও বয়েছে একদিন বাঙালির হৃদয় দিয়া।
তবুও বাঙালি চির অমর পেয়েছে স্বার্থকতা রক্তের সাগরে সকলে ডুব দিয়া।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমি-
যাঁহাদের রক্তের দানায় গড়া এই নির্যাতিত লাঞ্চিত জাতির মর্যাদা,
তাঁহাদের অন্তরালে রয়েছে বাংলার কোটি মায়ের তরুণ সন্তানদের তাজা তাজা রক্তের কণা।
রক্তে লেখা হে, স্বাধীনতা তুমি-
যুগে-যুগে ঘন আঁধার মুছে গেছে আজ সকল অজ্ঞতা গøানি,
স্বাধীনতা তুমি যেনো বাংলার জাগ্রত জনতার এক চির অক্ষয় মূর্তি।
(সংক্ষেপিত)।
রচনাকাল : (তাং ১৫-২০/০৭/২০০৫ ইং)।
বাসগৃহ সকাল ও রাত্রে।