সোমবার, ১৫ Jun ২০২৬, ০৬:১৯ অপরাহ্ন
শৈশব থেকেই তানজিলা আক্তারের (২২) জীবন সংগ্রামের। মা-বাবাকে হারিয়ে বড় হয়েছেন গার্মেন্টসকর্মী বোনের উপার্জনে। স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করার, কিন্তু কলেজে উঠতেই বিয়ে হয়ে যায় একই গ্রামের অটোচালক রিয়াজ মাহমুদের সঙ্গে। তবে সেই সুখের স্বপ্ন এখন তানজিলার কাছে এক দুঃসহ স্মৃতি। স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তিন বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে এখন ঘরছাড়া তিনি।
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়নের সংগীতকাঠি গ্রামে এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে। বর্তমানে বিচার ও আশ্রয়ের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এই তরুণী।
তানজিলার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী রিয়াজ মাহমুদের পরকীয়ার বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলেই শুরু হতো মারধর। এই নির্যাতনে শ্বশুর ও শাশুড়িও অংশ নিতেন বলে তাঁর দাবি। প্রথম সন্তান জন্মের সময় সিজারিয়ান অপারেশনের খরচ নিয়ে তানজিলার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়। নিরুপায় হয়ে তাঁর দিনমজুর ভাই ও বড় বোন ধারদেনা করে এক লাখ টাকা দিলেও থামেনি নির্যাতন। পরবর্তীতে সেই সন্তানটি মারা যায়।
স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। সর্বশেষ গত মার্চ মাসে স্বামীর পিটুনিতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে বরিশালের শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতাল থেকে ফিরে এখন বাবার চাচাতো ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তানজিলা বলেন, “আমি আমার সন্তানকে নিয়ে বাঁচতে চাই। স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির কেউ আমাদের কোনো খোঁজ নেয় না। আমি এর বিচার চাই।”
এদিকে তানজিলার ভাই মো. রাসেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্ত স্বামী রিয়াজ মাহমুদ পরকীয়ার বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে দাবি করেন, তিনি তানজিলাকে ডিভোর্স নোটিশ পাঠিয়েছেন।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”