শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সিদ্ধকাঠি ও কুশঙ্গল ইউনিয়নে প্রশাসন ও স্থানীয় নাগরিকদের সঙ্গে নিয়ে একটি ব্যতিক্রমী পরিকল্পনা কর্মশালা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেল ৪টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সিদ্ধকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভাকে তিনি সকল অংশীজনের সমন্বিত পরিকল্পনা কর্মশালা হিসেবে আখ্যা দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম গ্রাম পর্যায়ে ‘বটম-আপ অ্যাপ্রোচ’ বা নিচ থেকে ওপরের উন্নয়ন কাঠামোকে অগ্রাধিকার দিয়ে করা পরিকল্পনা সভা। ঢাকা বা জেলা শহরে বসে পরিকল্পনা না করে সরাসরি গ্রামের মানুষের কাছে গিয়ে তাদের প্রয়োজনীয়তা জানার এই মডেলটি সারাদেশে অনুসরণীয় হতে পারে।
ঝালকাঠির ৪টি উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৮শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বড় কোনো বাধা না আসলে ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যেই একনেক সভায় এটি অনুমোদন দেওয়া হবে। কোনো রাজনৈতিক নেতার দেওয়া তালিকা অনুযায়ী উন্নয়ন পরিকল্পনা না করে বাস্তবভিত্তিক প্রয়োজনকে সামনে রেখে তথ্য সংগ্রহের জন্যই জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ইউনিয়নের নাগরিকদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ইউনিয়নের সব গ্রামবাসীকে সব অবকাঠামোগত সমস্যা তুলে ধরতে উৎসাহিত করা হয়- যাতে হারানো গৌরব ফিরিয়ে এনে একটি আলোকিত ঝালকাঠি গড়া যায়।
সিদ্ধকাঠির পর কুশঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদে সন্ধ্যা ৭টায় একই মডেলে আরেকটি পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগণ তাদের এলাকার সমস্যাগুলো সরাসরি তুলে ধরেন। বিশেষ করে সড়ক সংস্কার, খাল খনন ও মসজিদসহ বিভিন্ন উন্নয়নসংক্রান্ত সমস্যার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন ইউনিয়নবাসী।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দুটি অনুষ্ঠানেই সভাপতিত্ব করেন ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল মন্টু, জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির এবং এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মাহমুদুল্লাহ। এ ছাড়া নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুণ্ডু ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।