রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩২ পূর্বাহ্ন

ঝালকাঠি পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জলাশয় ভরাট করে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের অভিযোগ

ঝালকাঠি পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জলাশয় ভরাট করে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের অভিযোগ

ঝালকাঠি পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জলাশয় ভরাট করে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের অভিযোগ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

ঝালকাঠি পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জলাশয় অনুমিত ছাড়াই ভরাট করে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি দরপত্রের কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক মাহমুদুল ইসলাম কাজ শুরু করে দিয়েছেন। ঝালকাঠি শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এ ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের জন্য ৭ লক্ষ ৭ হাজার ৮৮৭ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে ঝালকাঠি পৌরসভা।
এদিকে গত ১৫ এপ্রিল সকালে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনের সভা কক্ষে হাইওয়ে মাস্টার প্ল্যান-২০৪০ বাস্তবায়নে অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই সভায় ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরীফ খান বিষয়টি উপস্থপান করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ৩৫.০১.৪২৪০.৪৬২.০৩.১-৮-৫৬৪/১(৪) তারিখ ১৫/০৪/২০২৬ নং স্মারকে তিনি এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক বরাবর একটি চিঠি প্রেরণ করেন। চিঠিতে, বরিশাল-ঝালকাঠি-পিরোজপুর-বাগেরহাট-খুলনা জাতীয় মহাসড়কের পেট্রোল পাম্প মোড় হতে ঝালকাঠি শহর সংযোগ সড়কের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সওজ’র অধিগ্রহনকৃত জমির ওপর ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণ না করার জন্য অনুরোধ করেন। বরিশাল-ঝালকাঠি-পিরোজপুর-বাগেরহাট-খুলনা জাতীয় মহাসড়টি ৪-লেনে উন্নতিকরণের পরিকল্পনা রয়েছে। পেট্রোল পাম্প মোড় হতে ঝালকাঠি শহর সংযোগ সড়কটিও ৪-লেনের অন্তর্ভুক্ত। সড়কটি ৪-লেনে উন্নতিকরণ করা হলে সড়ক ও জনপথের অধিগ্রহনকৃত জমি প্রয়োজন হবে। সওজ’র অধিগ্রহনকৃত জমি যথাযথ প্রক্রিয়ায় অনুমতি ব্যতীত অন্যকোন সরকারী/বেসরকারী কাজে ব্যবহারের সুযোগ নেই। ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণ কাজে “ভূমি ব্যবহার নীতিমালা-২০১৫ অনুযায়ী কোন পূর্ব অনুমোদনও গ্রহন করা হয়নি। এমতাবস্থায়, উক্ত স্থানে কোন স্থাপনা/ ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণ না করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের মালিকানানধীন এ জমিতে ২০২৩ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু একটি মডেল মসজিদ নির্মাণ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সড়ক ও জনপথ বিভাগের অনুমোদন না পাওয়ায় মডেল মসজিদ নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। সেই একই স্থানে ঝালকাঠি পৌর কর্তৃপক্ষ সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমিতে অনুমিত ছাড়াই ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের জন্য দরপত্র অনুমোদন দিয়েছে।

কৃষ্ণকাঠি মৌজার, ৯৯ নং জে এল , ১৪২৮ নং এস এ দাগের এ জমি সম্পূর্ণ ব্যক্তি মালিকানার জমি থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ অধিগ্রণ করেছে। সেই জমির পাশে এখনও ব্যক্তি মালিকানার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা রয়েছে। এছাড়াও জায়গাটি একটি জলাশয়। এটি বালু দিয়ে ভরাট করাও অপরাধ। অনুমোদন ছাড়া নদী, খাল, বিল, পুকুর বা জলাধার ভরাট করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ‘প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০’ এবং ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫’ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমোদন ছাড়া জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। আইন লঙ্ঘন করে জলাশয় ভরাট বা শ্রেণি পরিবর্তন করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

এ বিষয়ে জমির মালিক কামরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, এ দাগের সম্পূর্ণ জমি আমাদের ক্রয়কৃত। এ দাগ হতে জমি অধিগ্রহন করা হয়েছে। যেহেতু অধিগ্রহনের পরেও দাগের বেশির ভাগ জমির মালিকানা আমাদের। তাই এ ধরনের উন্নয়ন কাজে জমির সঠিক পরিমাপ করা এবং জমির প্রকৃত মালিককে নোটিশ করা। আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানিনা। এমনকি অধিগ্রহণকৃত জমির মালিক সড়ক ও জনপথ বিভাগ কিছুই জানে না। পৌর কর্তৃপক্ষের এ ধরণের কাজ সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত।

ঠিকাদার মাহমুদুল ইসলাম বলেন, আমি কাজের অনুমতি পেয়েছি। তাই কাজ শুরু করে দিয়েছি। জমির মালিকানা কার বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষ দেখবে। অন্যদিকে পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান বলেন, ঝালকাঠি পৌরসভার একটি ট্রাকস্ট্যান্ড থাকা একান্ত জরুরী। সে কারণে এ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে সমাধান করা হবে।

 

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

কাঠালিয়া বার্তা’য় বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন : মোবাইলঃ 01774937755 অথবা ই-মেইল: kathaliabarta.com












All rights reserved@KathaliaBarta 2016-2025
Design By Rana