মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:০৫ অপরাহ্ন
ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় মেহেদী হাসান শুভ খান (২৫) নামে মাদকাসক্ত ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা’র অভিযোগ উঠেছে পিতা মো. বারেক খানের বিরুদ্ধে। রবিবার (১৫ ফেব্রæয়ারি) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার আমুয়া ইউনিয়নের ছোনাউটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর নিহতের পিতা মো. বারেক খানকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর সহকারী পুলিশ সুপার (কাঠালিয়া-রাজাপুর) সার্কেল মো. শাহ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় কাঠালিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ আবু নাছের রায়হান ও ওসি তদন্ত হারান চন্দ্র পালসহ পুলিশের একটি টিম সাথে ছিলেন। এ ঘটনায় শুভ’র মা খুশি বেগম স্বামী আব্দুল বারেক খানকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মেহেদী হাসান শুভ দীর্ঘদিন থেকে মাদাকাসক্ত ছিলো। প্রায়ই মাদকের টাকার জন্য বাবাকে চাপ দিতেন। পিতা-মাতা ছাড়াও এলাকার অনেক প্রতিবেশীকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করেছে। তার অত্যাচার নির্যাতনে পিতা-মাতাসহ এলাকাবাসী আতংকে থাকতো। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শুভ মোটরসাইকেল কেনার জন্য তাঁর বাবা বারেক খানের কাছে ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। তাঁর বাবা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে বসত ভাংচুর করে। এ নিয়ে বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শুভর ঝগড়া হয়। পরে স্থানীয় আমুয়া বাজার থেকে একটি ধারালো দা কিনে এনে শুভ তাঁর বাবাকে হত্যার হুমকি দেন। মাকে জানান, টাকা না দিলে আজ রাতে তোমাদের ২জনকে জবাই করা হবে। এ খবর মা খুশি বেগম স্বামী আব্দুল বারেক খানকে জানান। বারেকের পরমার্শে স্ত্রী খুশি বেগম রাতে অন্য ঘরে ঘুমান। রাতে ঘরের পশ্চিম পাশের বারান্দায় ঘুমায় শুভ। একপর্যায়ে ক্ষোভে রাত ৩ টার দিকে পিতা বারেক খান ঘুমান্ত ছেলে শুভকে দাও দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে জাতীয় পরিসেবা ৯৯৯ এ কাঠালিয়া থানার পুলিশকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে বারেক খানকে আটক।
কাঠালিয়া থানার ওসি মো. আবু নাছের রায়হান জানান, অভিযুক্ত বারেক খানকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (কাঠালিয়া-রাজাপুর) সার্কেল মো. শাহ আলম জানান, মেহেদী হাসান শুভ মাদাকাসক্ত ছিলো। শুভর ভয়ে পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী অতিষ্ট ছিলো। যেকোন সময় সে মা-বাবা ও এলাকাবাসীকে মারধর ও জখম করতো। ঘটনার দিন রাতে মা-বাবার কাছে শুভ ৩ লক্ষ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে ব্যর্থ হলেন পিতা-মাতা দুইজনকে জবাই করে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। এতে পিতা বারেক ভীতসন্তোস্থ ও অতিষ্ট হয়ে স্ত্রী খুশি বেগমকে অন্য ঘরে ঘুমাতে দিয়ে রাত ৩টার দিকে দাও দিয়ে কুপিয়ে শুভকে হত্যা করে।