শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৫৮ অপরাহ্ন
বিশেষ প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন নিজাম মীরবহরকে শোকজ করেছেন ঝালকাঠি জেলা বিএনপি। আজ শনিবার (৫ এপ্রিল) জেলা বিএনপির আহবায়ক এ্যাডভোকেট মো. সৈয়দ হোসেন ও সদস্য সচিব এ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেনের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আদেশ প্রদান করা হয়। এতে তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের ভাবমুর্তি- ক্ষুন্নের জন্য কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না মর্মে আগামী ৩ কার্য দিবসের মধ্যে জেলা বিএনপির কাছে লিখিতভাবে জবাব প্রদানের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
ওই চিঠিতে বলা হয়, আপনি (আখতার হোসেন নিজাম মীরবহর) কাঠালিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বশীল পদে থেকে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ড এবং চাঁদাবাজির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে। দলের অত্যন্ত ত্যাগী নেতা, যিনি ফ্যাসিস্ট হাসিনা পতন আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং মিথ্যা ও গায়েবী মামলার আসামি হয়ে কারা নির্যাতিত হয়েছেন। সেই নির্যাতিত নেতা কাঠালিয়া উপজেলার ৩নং আমুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ ফজলে খোদা (সুমন খলিফা) এর নিকট আপনি ৫০০০০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবি করেন।
উক্ত দাবিকৃত টাকা না পেয়ে তাকে আওয়ামী দোসরদের সাথে (কাঠালিয়া থানার মামলা নং ৯, তারিখ ২১.১১-২০২৪ ইং ) ৮ নং ক্রমিকে মামলার আসামি করেছেন মর্মে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান এর নিকট ভুক্তভোগী জনাব মোঃ ফজলে খোদা (সুমন খলিফা) গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ইং তারিখে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। যাহার অনুলিপি ঝালকাঠি জেলা বিএনপির নিকট প্রদান করা হয়েছে। উক্ত অভিযোগ ছাড়াও সম্প্রতি আপনার একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যে অডিও ক্লিপে আপনি পতিত সৈরাচার হাসিনার অধীনে ২০২৪ইং এ অনুষ্ঠিত একতরফা উপজেলা নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী, কাঠালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সিকদার এর পক্ষে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছেন এবং স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গোলাম কিবরিয়া সিকদারের পক্ষে নির্বাচনী কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ এবং ভোট প্রদানের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রকাশ থাকে যে যুবদল নেতা মোঃ ফজলে খোদা (সুমন খলিফার) নিকট চাঁদা দাবি করে তাহা না পাওয়ায় এবং সে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আমুয়া ইউনিয়নে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় আপনি তাকে আওয়ামী দোসরদের সাথে একত্রিত করে তাকে আওয়ামী ঘরনার ব্যক্তি বানানোর জন্য মামলার আসামি করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে আপনার নানা রকম বিতর্কিত কর্মকান্ডের বিষয় স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকার নিউজ হয়েছে এমনকি ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা ও প্রকাশের কারণে দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে এবং হচ্ছে।
এমতাবস্থায় উত্থাপিত অভিযোগের কারণে আপনার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের ভাবমুর্তি- ক্ষুন্নের জন্য কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না মর্মে আপনার নিকট লিখিত বক্তব্য/জবাব আগামী ৩ (তিন) দিনের মধ্যে জেলা বিএনপির আহবায়ক এবং সদস্য সচিব এর নিকট প্রদানের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা গেল।