শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন

ঝালকাঠিতে স্বামীর পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে হ-ত্যার অভিযোগ

ঝালকাঠিতে স্বামীর পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে হ-ত্যার অভিযোগ

ঝালকাঠিতে স্বামীর পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে হ-ত্যার অভিযোগ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

ঝালকাঠির রাজাপুরে স্বামীর পরকীয়ার জেরে রেহেনা বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে স্বামী আরিফ খলিফা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) ভোরে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে মরদেহ বাবার বাড়িতে রেখে দ্রুত পালিয়ে যায় স্বামী আরিফ। এ ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভের ছায়া।

রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের সাংগর গ্রামের শহিদ হাওলাদারের মেয়ে রেহেনার সঙ্গে প্রায় আট বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় আরিফ খলিফার। তাদের চার বছর বয়সী নাবিলা ইসলাম জান্নাত নামে এক কন্যা সন্তান রয়েছে। আরিফ ঢাকায় নিরাপত্তা প্রহরীর চাকরি করতেন; স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে গত আট মাস ধরে রাজধানীর কেরানীগঞ্জে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

পরিবারের অভিযোগ—দীর্ঘদিন ধরে রেহেনার সংসারে অশান্তি চলছিল। আরিফের পরকীয়ার ঝামেলার কারণ প্রায়ই রেহেনাকে নির্যাতন করতো। কয়েকদিন আগে রেহেনার মা ঢাকায় গিয়ে মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসতে চাইলে ‘সংসার ভেঙে যাবে’—এই ভয়ে রেহেনা ফিরতে চাননি।

রেহেনার মামা শাহিন আকন জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফোনে জানানো হয় রেহেনা অসুস্থ। তিনি বাসায় গিয়ে রেহেনাকে মৃত দেখতে পান। পরে কিছুক্ষণ পর আবার হাসপাতালে নিতে বলা হলেও ফের তাকে বাসায় ডাকেন স্বামী আরিফ। বিষয়টি রহস্যজনক মনে হলে তিনি রেহেনার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।

শুক্রবার ভোরে মরদেহ সাংগর গ্রামে পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্যরা রেহেনার গলা, হাত ও পিঠে নির্যাতনের স্পষ্ট দাগ দেখতে পান। মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে স্বামী আরিফ ও তার সঙ্গে আসা আত্মীয়রা দ্রুত সটকে পড়েন।

নিহতের বাবা শহিদ হাওলাদার ও ভাই সাব্বির অভিযোগ করে বলেন, “পারিবারিক কলহের জেরে রেহেনাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। পরে অসুস্থতার নাটক সাজিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।” তারা সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্টের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। তবে রহস্যজনক এই মৃত্যু ঘিরে এলাকায় তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

 

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

কাঠালিয়া বার্তা’য় বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন : মোবাইলঃ 01774937755 অথবা ই-মেইল: kathaliabarta.com












All rights reserved@KathaliaBarta 2016-2025
Design By Rana