মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৫৫ অপরাহ্ন
ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক দুলাল শরীফকে গ্রেফতার করেছে নলছিটি থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ভোররাতে পৌরসভার মালিপুর এলাকার নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
নলছিটি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আশ্রাব আলী জানান, দুলাল শরীফের বিরুদ্ধে নলছিটি থানায় দায়ের করা একটি জি.আর মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুলাল শরীফ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ দলীয় ক্যাডারদের নিয়ে নলছিটি শহরের ব্যবসায়ী আজমল হোসেনের প্রতিষ্ঠান সোনালী ট্রেডার্সে হামলা চালান। এ সময় তারা দোকানের ক্যাশে থাকা প্রায় ৪০ হাজার টাকা ও বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।হামলাকারীরা দোকানের সামনের মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আজমল হোসেন জানান, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় ভয়ে তিনি সে সময় মামলা করতে পারেননি। তবে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সরকারের পতনের পর সাহস সঞ্চয় করে নলছিটি থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার ভোরে দুলাল শরীফকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
দুলাল শরীফ নলছিটির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন বিতর্কিত নাম। ১৯৮০-এর দশকে তিনি পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে যোগ দেন জাতীয় পার্টির ছাত্র সংগঠন নতুন বাংলা ছাত্র সমাজে এবং প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেন। এরশাদ সরকারের পতনের পর তিনি দল বদলে যোগ দেন বিএনপিতে, পরে আবার রাজনৈতিক সুবিধা নিতে আশ্রয় নেন আওয়ামী লীগে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। আমুর রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকেই দুলাল শরীফ উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এবং উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানের পদে আসীন হন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আমুর প্রভাব বলয়ে থেকে দুলাল শরীফ বিগত ১৬ বছর ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন।
নলছিটি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুস সালাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “দুলাল শরিফের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) আদালতে পাঠানো হয়েছে।”