১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী ফয়জুল হকের উপস্থিতিতে কাঠালিয়া উপজেলার আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের একটি মন্দিরের ভেতর এ বৈঠক হয় বলে স্থানীয় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন। বৈঠকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের পাশাপাশি জামায়াতের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন
১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী ফয়জুল হকের উপস্থিতিতে কাঠালিয়া উপজেলার আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের একটি মন্দিরের ভেতর এ বৈঠক হয় বলে স্থানীয় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন। বৈঠকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের পাশাপাশি জামায়াতের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনী আইনের ভাষ্য অনুযায়ী, এখানে কোনো ব্যাখ্যার সুযোগ নেই। ‘উঠান বৈঠক’, ‘মতবিনিময়’ বা ‘সাধারণ সাক্ষাৎ’, নাম যা-ই দেওয়া হোক, প্রার্থী উপস্থিত থেকে ভোট চাইলে তা সরাসরি আচরণবিধি লঙ্ঘন।
অনুমতির প্রশ্নে ধোঁয়াশা
এই বৈঠকের জন্য স্থানীয় প্রশাসন বা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নথি পাওয়া যায়নি। কাঁঠালিয়া উপজেলা প্রশাসনও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দিতে পারেনি। কিন্তু বিধান অনুযায়ী, প্রার্থী কোন এলাকায় কোন স্থানে, কখন উঠান বৈঠক করবেন, সেটি আগেভাগেই রিটার্নিং কিংবা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, ধর্মীয় স্থানের আশপাশে উঠান বৈঠকের অনুমতি থাকলেও ধর্মীয় স্থানে প্রচারণার সুযোগ নেই। ফলে অনুমতি ছিল কি না, সেটি এখানে গৌণ। মূল প্রশ্ন হলো, এই বৈঠক আদৌ হওয়ার কথা ছিল কি না।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রার্থীর ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনার কর্মসূচি ছিল। প্রার্থীর এলাকায় আগমনের বিষয়টি স্থানীয়দের আগেভাগেই দলীয় নেতাকর্মীরা গিয়ে অবহিত করে আসছে। কিন্তু সময়স্বল্পতার অজুহাত দেখিয়ে প্রার্থী মন্দিরে যান। তার আগেই দলীয় নেতাকর্মীরা আশপাশের নারী-পুরুষ ভোটারদের মন্দিরে জড়ো করেন।
প্রশাসনের নীরবতা
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে আলোচিত হলেও এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সতর্কতা, শোকজ বা ব্যাখ্যা চাওয়ার উদ্যোগ দেখা যায়নি। এর আগেও প্রার্থীর বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশের জবাবে প্রার্থীকে সতর্ক করা হয়েছিল। তার পরও প্রার্থী পুলিশ প্রটোকলে নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রেখেছিলেন। এ নিয়ে কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর দুই পুলিশ সদস্যকে প্রচারণা থেকে বিরত রাখেন।
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, ‘এই ঘটনা উপেক্ষিত থাকলে ভবিষ্যতে অন্য প্রার্থীরাও ধর্মীয় স্থানকে প্রচারণার নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করতে উৎসাহ পাবে।’ তিনি বলেন, এর আগেও একই প্রার্থী পুলিশ প্রটেকশনে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। সে সময়ও প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি। জায়গা সংকটের কারণে আওরাবুনিয়া রাধা গোবিন্দ সেবাশ্রামের উঠানে হিন্দুদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছিল।
এ ব্যাপারে ফয়জুল হকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, এটি ‘সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ’ ছিল। তবে ধর্মীয় স্থানে প্রার্থীর উপস্থিতি ও ভোট প্রার্থনার ওপর আচরণবিধির নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি ওই সূত্র।