শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:৩৪ অপরাহ্ন

কাঠালিয়ায় তথ্য গোপন করে শিক্ষক নিয়োগ; সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন ও আত্মসাৎ

কাঠালিয়ায় তথ্য গোপন করে শিক্ষক নিয়োগ; সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন ও আত্মসাৎ

বিশেষ প্রতিনিধি:

ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার চেঁচরীরামপুর এম.এল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে শিক্ষা জীবনে সকল শ্রেণিতে তৃতীয় বিভাগে উত্তীর্ণের তথ্য গোপন, কাঙ্খিত অভিজ্ঞতা না হওয়া ও সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে বিধি বর্হিভূতভাবে নিয়োগ নিয়ে ৪বছর ধরে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন ও আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার উত্তর চেঁচরী গ্রামের সৈয়দ আলী’র ছেলে সরোয়ার হোসেন এইচএসসি পাস করার পর গত ১৭-০৭-১৯৯৫ খ্রি: থেকে ০১-০৩-২০১৭ খ্রি:পর্যন্ত পর্যন্ত তিনি ৩টি বিদ্যালয়ে জুনিয়ার শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক ) পদে চাকরি করেন।

চাকরি অবস্থায় তিনি ২০০৭ সালে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  স্নাতক পাস করেন। তিনি কোন বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি না করে এবং ১০ বছরের কাঙ্খিত অভিজ্ঞতা ছাড়া বিধি বর্হিভূতভাবে জুনিয়ার শিক্ষক সরোয়ার হোসেন গত ০১-০৪-২০১৭ খ্রি: চেঁচরীরামপুর এম.এল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নেন এবং ওই থেকে নিয়মিত সরকারী বেতন-ভাতা উত্তোলন ও আত্মসাৎ করে আসছেন।

২০১৯ সালে বিদ্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অডিটকালীন শিক্ষক সরোয়ার হোসেনের এ জালিয়াতি ধরা পরে এবং সঠিক কাগজপত্র প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং- ডিআইএ/ঝালকাঠি /২৪১১ এস/খুলনা ২৬৬৫/৬ তারিখ:- ২৫-০২-২০১৯ এর চূড়ান্ত অডিট রিপোর্টে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত এক পত্রে সহকারী প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেনের নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করেন এবং তিনি সরকারী কোন বেতন-ভাতা প্রাপ্ত হবেন না মর্মে নির্দেশনা প্রদান করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সম্পূর্ণ অন্যায় ও বেআইনীভাবে প্রধান শিক্ষক আমার আগস্ট-২০২০ মাসের বেতন-ভাতা বন্ধ করে রেখেছেন। মন্ত্রণালয়ের অডিট রির্পোট সংশোধনীর জন্য পরবর্তীতে আমি কাজগপত্র জাম দিয়েছে, ওটা ঠিক হয়ে আসবে।

প্রধান শিক্ষক মোঃ মেহেদী হাসান জানান, সহকারী প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেনের শিক্ষা জীবনের এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক শ্রেণিতে তৃতীয় বিভাগ, সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে ১০বছরের অভিজ্ঞতা  ও যোগ্যতা না থাকা সত্বেও বিধি বর্হিভূত ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ নেয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চুড়ান্ত অডিট রির্পোটে আপত্তি রয়েছে।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, দালালী, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ বিদ্যালয়ের পরিপন্থী কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সরোয়ার হোসেনের আগস্ট-২০২০ মাসের সরকারি বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বিধিগত ব্যবস্থা হচ্ছে।

 

Share Button
Print Friendly, PDF & Email





পুরাতন খবর

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved ©Kathalia Barta (2016-2020)
Design By Rana