প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১৫, ২০২৬, ৬:০১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ৫, ২০২৬, ১১:২৬ পি.এম
ঝালকাঠিতে চাকরির প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ
ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠিতে এক নারী শ্রমিককে ধর্ষণ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং গর্ভবতী করার অভিযোগে কারখানা মালিক ও তার এক সহযোগীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শরীফ মোহাম্মদ সানাউল্লাহ অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী ঝালকাঠি শহরের পূর্ব কাঠপট্টি এলাকার ‘আদি সাবিহা কেমিক্যাল ওয়ার্কস’ (শাহী ৯৯ জর্দা) কারখানার এক নারী শ্রমিক। মামলায় ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে ঝালকাঠি পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুল হক মনু মিয়াকে এবং ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে একই কারখানার শ্রমিক ফরিদ হোসেনকে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২ নম্বর আসামি ফরিদ হোসেন চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে কারখানার মালিক মনু মিয়ার কাছে নিয়ে যান। এরপর মনু মিয়া বিভিন্ন প্রলোভন ও চাপ সৃষ্টি করে একাধিকবার তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেন। চাকরির সুযোগকে পুঁজি করে তাকে বারবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া মামলার বর্ণনায় বলা হয়, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর ফরিদ হোসেনও ভুক্তভোগী নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এর ফলে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়লে বিষয়টি গোপন রাখতে এবং গর্ভের সন্তানের বৈধতা দিতে শামসুল হক মনু মিয়ার উদ্যোগে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদ হোসেনের সঙ্গে কাবিন রেজিস্ট্রি করানো হয়। পরে ১৫ জুলাই একটি কন্যা সন্তান জন্ম নিলে একই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ফরিদ হোসেন তাকে তালাক দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার বিষয়টি প্রকাশ করতে চাইলে আসামিরা ভুক্তভোগী নারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর ও হত্যার হুমকি দেন। একপর্যায়ে তাকে কারখানা থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে সাক্ষীদের সঙ্গে পরামর্শ করে ২ ডিসেম্বর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। এরপর ন্যায়বিচারের আশায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলায় একাধিক সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী পার্থসারথি রায় বলেন, “ভুক্তভোগী নারী যেন ন্যায়বিচার পান, সে লক্ষ্যেই আমরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।”
অভিযুক্ত শামসুল হক মনু মিয়ার বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “আদালতের নির্দেশনা এখনো থানায় এসে পৌঁছায়নি। হাতে পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. শহীদুল আলম,
বার্তা সম্পাদক : মো. সাকিবুজ্জামান সবুর
অফিস: কলেজ রোড, কাঠালিয়া, ঝালকাঠি- ৮৪৩০
মোবাইল: ০১৭১২৫২৯২৬৬, ০১৭৭৪৯৩৭৭৫৫
ই-মেইল: kathaliabarta@gmail.com
Copyright © 2026 কাঠালিয়া বার্তা. All rights reserved.