বিশেষ প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার তাঁরাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় কাঠালিয়া সদরের সাংবাদিকদের একটি ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের জমিদাতা অহিদুজ্জামান এনায়েত এবং দেলোয়ার হোসেন জমাদ্দার।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, মো. শহীদুল ইসলাম খান ১৯৮৭ সালের ৩ জানুয়ারি সহকারী শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। পরে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ গাজির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে বরখাস্ত করানোর অভিযোগ তোলা হয়। ১৯৮৮ সালে একাধিক সিনিয়র শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও বিধি লঙ্ঘন করে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেন বলে দাবি করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি নিয়োগ বাণিজ্য, বিদ্যালয়ের বই, গাছ, আসবাবপত্র ও পুরাতন ভবন বিক্রি, স্বীকৃতিপত্রে টেম্পারিং, সাধারণ তহবিল ও এফডিআরের অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদ্যালয়ের জমি বিক্রিসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
বক্তারা দাবি করেন, নিজের আত্মীয়কে বিদ্যালয়ের সভাপতি বানিয়ে মেয়েকে সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে এবং দুই কর্মচারীকে প্রায় ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগ বিভিন্ন সময় দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা প্রশাসক কার্যালয় এবং শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
বিদ্যালয়ের জমিদাতা অহিদুজ্জামান এনায়েত বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললেও অদৃশ্য কারণে এখনো কোন বিচার হয়নি।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলাম খান অবসরে গেছেন। বর্তমানে সহকারী প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় সাবেক প্রধান শিক্ষকের কাছে আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হলে তিনি তা সঠিকভাবে দিতে পারেননি বলে অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলাম খান মুঠোফোনে বলেন, “আমি চলতি বছরের ১০ মার্চ অবসরে গেছি। আমাকে হয়রানি করার জন্য এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন করা হচ্ছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন বলেন, সভায় সাবেক প্রধান শিক্ষকের কাছে তাঁর দায়িত্বকালীন আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হয়েছিল। তিনি তা এলোমেলোভাবে উপস্থাপন করেছেন। সঠিকভাবে উপস্থাপনের জন্য তাকে সময় দেওয়া হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. শহীদুল আলম,
বার্তা সম্পাদক : মো. সাকিবুজ্জামান সবুর
অফিস: কলেজ রোড, কাঠালিয়া, ঝালকাঠি- ৮৪৩০
মোবাইল: ০১৭১২৫২৯২৬৬, ০১৭৭৪৯৩৭৭৫৫
ই-মেইল: kathaliabarta@gmail.com
Copyright © 2026 কাঠালিয়া বার্তা. All rights reserved.