এখন সময় :
,
kathaliabarta.com

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে এবার মিলল প্রায় দেড় কোটি টাকা

ইমরান হোসেন, কিশোরগঞ্জ থেকে:

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে ৩ মাস ২০দিন পর দানবাক্স খুলে মিলল ১কোটি ৫০ লাখ ১৮ হাজার ৪৯৮ টাকা। এছাড়াও সোনা, রূপাসহ বৈদেশিক মদ্রারও কমতি ছিলনা এই দানবাক্সে।
শনিবার সকালে মসজিদের ৮টি দানবাক্স খোলা হয়। টাকার গণনার দায়িত্ব পালন করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফার তত্ত¡াবধানে প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সার্বক্ষণিক দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
প্রথমে টাকা গুলি বস্তায় ভরা হয় এরপর শুরু হয় দিনব্যাপী টাকা গণনার কাজ। বিকেলে গণনা শেষে দানের টাকার হিসাব পাওয়া যায়।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানান, সাধারণত ৩মাস পরপর মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলার সময় নির্ধারণ করা হয়। প্রতি মাসের ন্যায় এবারও  ৩মাস ২০ দিন পর দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে। পরে টাকাগুলো গুনে নগদ ১ কোটি ৫০ লাখ ১৮ হাজার ৪৯৮ টাকা পাওয়া যায়।
তিনি আরও জানান, টাকাগুলো রূপালী ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে। আর যে স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেছে তা আগের স্বর্ণালঙ্কারের সঙ্গে যোগ করে দানের সিন্দুকে রেখে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও দানে পাওয়া গবাদিপশু ছাগল, হাঁস-মুরগি প্রতি সপ্তাহেই নির্ধারিত দিনে নিলামে বিক্রি করা হয়।
সর্বশেষ গত বছরের ২৬ অক্টোবর মসজিদের দানবাক্সগুলো খুলে গণনা করে ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৪ হাজার ৫৯৮ টাকা পাওয়া যায় বলেও জানান তিনি।
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পশ্চিম প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে আনুমানিক চার একর জায়গায় ‘পাগলা মসজিদ ইসলামী কমপ্লেক্স’ অবস্থিত। প্রায় আড়াইশ বছর আগে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয় বলে ইতিহাস সূত্রে জানা যায়। এই মসজিদের প্রতিষ্ঠা নিয়ে অনেক কাহিনী প্রচলিত আছে, যা ভক্ত ও মুসলি­দের আকর্ষণ করে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশ্বাস রয়েছে, এখানে মানত করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়। আর এ কারণেই মূলত দূর-দূরান্তের মানুষও এখানে মানত করতে আসেন। দানবাক্সে পাওয়া টাকা সাধারণত কমিটি, জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীলদের পরামর্শে বিভিন্ন মসজিদে দান-খয়রাত, মাদ্রাসার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়ে থাকে।
কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে পাগলা মসজিদ অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান। শহরের পশ্চিমে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে মাত্র ১০ শতাংশ ভূমির ওপর এই মসজিদটি গড়ে উঠেছিল। সময়ের বিবর্তনে আজ এ মসজিদের পরিধির সাথে সাথে বেড়েছে এর খ্যাতি ও ঐতিহাসিক মূল্যও।
মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি অত্যাধুনিক ধর্মীয় কমপ্লেক্স এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। স¤প্রসারিত হয়েছে মূল মসজিদ ভবন। দেশের অন্যতম আয়কারী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত মসজিদটিকে পাগলা মসজিদ ইসলামী কমপ্লেক্স হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে।
এ মসজিদের আয় দিয়ে কমপ্লেক্সের বিশাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। সা¤প্রতিক সময়ে মসজিদটিকে ঘিরে চলছে ব্যাপক উন্নয়নযজ্ঞ। এছাড়া মসজিদের আয় থেকে বিভিন্ন সেবামূলক খাতে অর্থ সাহায্য করা হয়।

 

 

Share Button
Print Friendly, PDF & Email
নোটিশ :   কাঠালিয়া বার্তার প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি - সম্পাদক
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ শহীদুল আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মোহাম্মদ আবদুল হালিম
বার্তা সম্পাদক: মোঃ সাকিবুজ্জামান সবুর
সম্পাদকীয় কার্যলয়: কাঠালিয়া বার্তা, কলেজ রোড, কাঠালিয়া, ঝালকাঠি।
ইমেল: kathaliabarta@gmail.com, মুঠোফোন: ০১৭১২৫২৯২৬৬, ০১৭৭৪৯৩৭৭৫৫