মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৪৩ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ
ঝালকাঠি মন্ডপে মন্ডপে মহা নবমী পূজা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে ৫২ লাখ টাকা নিয়ে উধাও আদম ব্যবসায়ী রাজাপুরে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগে মামলা কাঠালিয়ায় নৌবাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ বর্ণাঢ্য আয়োজনে নলছিটিতে ৫ দিন ব্যাপী দূর্গাউৎসব সমাপ্ত কাঠালিয়ায় কচুয়ার বিষখালী নদীর পাড় থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার রাজাপুরের সাতুরিয়া ইউনিয়নে বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন কালে চমক দেখালেন প্রবীন আ.লীগ নেতা ৭৫ পরবর্তী অবৈধ সরকারগুলোই দুর্নীতির বীজ বপন করে গেছে দূর্গাপূজায় ইউপি চেয়ারম্যান রিপনের ব্যতিক্রম উদ্যোগ ঝালকাঠিতে ৭ জেলে আটক, এক বছর করে কারাদন্ড ৫০ হাজার মিটার, ৯টি নৌকা ও ৩০ কেজি ইলিশ জব্দ
কাঠালিয়ায় অস্তিত্ব সংকটে সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র ছইলার চর

কাঠালিয়ায় অস্তিত্ব সংকটে সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র ছইলার চর

মোছাদ্দেক হাওলাদার:

বিশখালী নদীর চরে প্রকৃতির নৈসর্গ সাজিয়েছে ছইলার চর। পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও অস্তিত্ব সংকটে পরেছে সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র ছইলার চর। বিশখালী নদী তীরে ৪১ একর জমি নিয়ে জেগে ওঠা বিশাল চরে রয়েছে প্রায় লক্ষাধিক ছইলা গাছ। আর এ গাছের নাম থেকেই জেগে ওঠা নদী চরের নামকরণ করা হয়েছে ছইলার চর। নানা সংকটকে উপেক্ষা করে প্রকৃতির নয়নাভিরাম ছইলার চরে দিন দিন পর্যটকদের ভীড় বেড়েই চলেছে।

অতিসম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের মতো লাখো ছইলা গাছে বিভিন্ন পাখি নীড় বেঁধেছে। পুরো চরজুড়ে বিচিত্র রকমের পাখির কলকাকলি পর্যটকদের মনছুঁয়ে যায়। ছইলা গাছ ছাড়াও এখানে কেয়া, হোগল, রানা, এলি, মাদার, আরগুজিসহ বিভিন্ন প্রজাতের গাছ রয়েছে। কিন্তু দিন দিন নদী ভাঙন ও স্থানীয় কতিপয় ভূমিদস্যুর কারণে অস্তিত্ব সংকটে পরেছে অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র ছইলার চর।

বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাতে ক্রমশই ছইলার চর হারাচ্ছে তার সৌন্দর্য্য। হয়ে পরছে শ্রীহীন। এ পর্যটন কেন্দ্রটি রক্ষায় এখনই বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহন করা না হলে সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্রটি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সুশিল সমাজের নেতৃবৃন্দরা।

নদী ভাঙনে কমছে জমি: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নদীর পানি বৃদ্ধি, প্রাকৃতি দুর্যোগ আর বিশখালী নদীর অব্যহত ভাঙনে সম্ভবনাময় এ পর্যটন কেন্দ্রটির একাংশ বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদী গর্ভে। ফলে আসল রূপ হারিয়ে দিন দিন শ্রীহীন হয়ে পরছে ছইলার চর। হারাতে বসেছে অস্তিত্ব। ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে কয়েক একর জমি ও গাছ। পর্যটকদের যাতায়তের সুবিধার্থে বৃহত্তর বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত পাকা ঘাটলাটিও বিশখালী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দ্রæত সময়ের মধ্যে ভাঙনরোধ না করা হলে বিশখালী নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে অপরূপ সৌন্দর্যের লীলা নিকেতনখ্যাত ছইলার চর।

শৌলজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যন মাহমুদ হোসেন রিপন বলেন, পর্যটনকে বিকশিত করার পাশাপাশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নানামুখী প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। কিন্তু প্রাকৃতিক দূর্যোগের কবল থেকে রক্ষা করা যাচ্ছেনা সদর ইউনিয়নের হেতালবুনিয়া মৌজায় অবস্থিত সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র ছৈলার চরকে। ছইলার চরের ভাঙনরোধ এবং পর্যটকদের আরও আকৃষ্ট করতে জরুরি ভিত্তিতে তিনি সরকারি উদ্যোগ গ্রহনের দাবি করেছেন।

জমি দখল করে চাষাবাদ:  সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের কারণে সম্ভবনাময় পর্যটন কেন্দ্র ছইলার চরের শতাধিক গাছ উজাড় করে আবাদি জমিতে পরিণত করা হয়েছে। কয়েক একর বন উজাড় করে ফসলি জমি বানিয়ে সেখানে চাষাবাদ করা হচ্ছে। আর এ কাজে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন। প্রকাশ্যে নির্বিচারে বনের গাছপালা কেটে চাষাবাদ উপযোগী করে নেপথ্যে তারা নিজেরাই চাষাবাদ করছেন। নির্বিচারে এভাবে বন ধ্বংসে সরকারী বনভূমি বেখলে চলে যাওয়ার পাশাপাশি বনের প্রাণীকুল ধ্বংস হয়ে পরিবেশের বিস্তার ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। প্রাকৃতিকভাবে সমৃদ্ধ ছইলা ও মাদার গাছ কেটে আগুন দিয়ে পুরে আবাদী জমিতে পরিনত করে চাষাবাদ করা হচ্ছে।  তাছাড়াও ঝুপরি বন কেটে আগুনদিয়ে পুরে পরিস্কার করে চাষ করে আবাদ উপযোগী করে সেখানে ডাল, সরিষা, আলু ও মরিচ চাষ করা হচ্ছে। বন উজাড় ও আগুন দিয়ে পোড়ানোর ফলে বন্য প্রাণী ধ্বংস, পরিবেশের বিস্তার ক্ষতির সাথে সরকারের জমি হচ্ছে বেদখল।

বন উজাড় করা কাঠ যাচ্ছে ইটভাটায়: ছইলার চর থেকে চোরাইপথে উজাড় করা জ্বালানি কাঠ পাচার হচ্ছে ইটভাটাগুলোতে। এসবে সক্রিয় রয়েছে একাধিক চক্র। তারা ট্রলারযোগে প্রকাশ্যদিবালোকে কাঠ নিয়ে যাচ্ছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ইট ভাটায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী সিন্ডিকেট জ্বালানি কাঠ পাচারের সাথে জড়িত। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ছইলার চরের বৃক্ষ উজাড় করে নৌপথে জ্বালানি কাঠের চোরাই চালান হয় বেতাগী, কাঠালিয়া, মোকামিয়া, দরিয়ারচর এলাকার অধিকাংশ ইট ভাটায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুফল চন্দ্র গোলদার বলেন, চোরই কাঠের পাচার বন্ধে প্রশাসনিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

পর্যটকদের দুর্ভোগ: প্রতি বছর শীতের মৌসুমে পর্যটকদের ভীড়ে মুখরিত থাকে এ স্থানটি। দূরদূরান্ত থেকে এখানে প্রতিদিন তিন থেকে চারটি পিকনিকের দল আসে। কিন্তু এখানে আসার সরাসরি কোন যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় চরে আসতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পর্যটকদের। ট্রলার বা নৌকা ছাড়া এখানে আসার কোন উপায় নেই। পর্যটকদের জন্য এখানে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে একটি পাকা ঘাটলা নির্মান করা হলেও নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে তা বিলিন হয়ে গেছে। এছাড়া পর্যটকদের কথা বিবেচনা করে টয়লেট, বিশুদ্ধ পানির জন্য একটি গভীর নলকূপ এবং ছোট্ট পরিসরে একটি পাকা খোলা কক্ষ নির্মাণ করা হলেও তা বর্তমানে ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পরেছে। নদীপথে ঝুঁকি নিয়ে যেমন ছইলার চরে আসতে হচ্ছে, তেমনি চরে নামতেও নিতে হচ্ছে ঝুঁকি। ট্রলার বা নৌকা থেকে চরটিতে নামার জন্য কোনো সিঁড়ি না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে নামতে হচ্ছে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের পর্যটকদের। সরেজমিন দেখা গেছে, চরটিতে বিশুদ্ধ পানির জন্য টিউবওয়েল থাকলেও তা বিকল হয়ে পরে আছে কয়েক বছর যাবত। নিরাপদ খাবার পানির অভাবে পর্যটকদের কখনো কখনো নদীর পানিও পান করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিশখালী নদীর বুক চিরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ছইলার চরে গত ছয় বছর ধরে প্রকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে অসংখ্য গাছপালা। যা পর্যটকদের দৃষ্টি কেড়েছে। তবে অনুন্নত যোগাযোগের কারণে সম্ভাবনাময় ছইলার চর পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারছেনা। তিনি আরও বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা যদি আরও উন্নত করা যায় এবং সরকার যদি একটু নজর দেয়, তাহলে ছইলার চর হতে পারে অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র।

গো-চারন ভূমিতে পরিনত: তদারকি না থাকায় দিন দিন গরু-মহিষ চরানোর মাঠে পরিণত হয়েছে সবুজের অভায়রণ্য খ্যাত ছইলার চর। চরের মধ্যে গাছগাছালির মধ্যে হরহামেশাই স্থানীয়রা গরু-মহিষ চড়াচ্ছেন। ফলে দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা এখানের প্রকৃতির স্বাদ নিতে এসে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। সম্প্রতি সময়ে ছইলার চরের সার্বিক সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য চরের মধ্যে ফাঁকাস্থানে বিভিন্ন প্রজাতির ওষুধি ও ফলের চারা রোপন করা হয়েছে। বর্তমানে রোপিত কিছু চারা থাকলেও পরিচর্যা আর তদারকির অভাবে বাকি গাছগুলো গরু-মহিষের পেটে নিমেষেই সাবার হয়ে গেছে।

ছইলার চরকে রক্ষার দাবি: উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদুল হক মনির বলেন, ছইলার চরটি পর্যটন সম্ভাবনার হাতছানি। এখানে পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা তৈরি করতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন থেকে পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে আবেদন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও স্থানীয় অসাধু ব্যক্তিদের কবল থেকে সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র ছইলার চরকে রক্ষা করার জন্য সরকারি উদ্যোগের কোন বিকল্প নেই। ছইলার চরের ভাঙন রোধে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ গ্রহনের দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এটি একটি আধুনিক ও আর্ন্তজাতিকমানের পর্যটন কেন্দ্র হতেপারে। তিনি বলেন. ২০১৪ সালে ছইলার চরকে পর্যটন স্পট হিসেবে চি‎হ্নিত করেছে উপজেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে ট্যুরিজম বোর্ড ছইলার চর উন্নয়নের লক্ষ্যে কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। যা বর্তমানে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ প্রকল্পটি অনুমোদনের পর বাস্তবায়ন করা হলে ছইলার চরটি হতে পারে দক্ষিণাঞ্চলে মধ্যে অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান।

করোনার মধ্যে অতিসম্প্রতি ছইলার চরে বরিশাল থেকে স্ব-পরিবারে ঘুরতে আসা শিক্ষক মুজিবুর রহমান তালুকদার বলেন, দীর্ঘদিন পর প্রকৃতির প্রকৃত সাধ পেলাম এখানে। এতো মনোরম পরিবেশে পর্যটনের জন্য এর চেয়ে আর ভাল স্থান হয়না। কিন্তু স্পটটি নিয়ে মাথা ব্যথা নেই সরকারি বা বেসরকারি কোন সংস্থার। নদী থেকে উঠা নামার সিড়ি কিংবা ঘাট, বিদ্যুৎ, টলঘর, রেষ্ট হাউজ, দোকানপাট এবং সড়ক যোগাযোগ সুগম করলে এটি পর্যটন আয়ের উৎস হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

Share Button
Print Friendly, PDF & Email





পুরাতন খবর

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved ©Kathalia Barta (2016-2020)
Design By Rana